রিং আইডির চটকদার অফার দেখে ঠকছেন গ্রাহক

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসার ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি গতি পাচ্ছে আর্থিক লেনদেনেও। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা কেনাবেচার অন্যতম মাধ্যম হলো ই-কমার্স। দিনদিন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে একশ্রেণির অসাধু চক্র এর অপব্যবহারেরও সুযোগ নিচ্ছে। নানা অফার দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কষ্টের অর্থ। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো  ‘রিং আইডি’ কোম্পানি। এতে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমে বিনিয়োগ করে অনেক গ্রাহক। এর অনেকেই এখন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভোগান্তির শিকার এমন এক গ্রাহক কিছুদিন আগে জানান এক মাস আগে ‘গোল্ড মেম্বারশিপ’ কেনার জন্য ২২ হাজার টাকা পেমেন্ট করায় অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাও কেটে নেওয়া হয়। তবে বিপত্তি বাধে একাউন্ট অ্যাকটিভ না হওয়ার ঘটনাটি৷ ভুক্তভোগী জানান  ‘রিং আইডি কমিউনিটি জবস মেম্বারশিপ’ নেওয়ার জন্য কিছুদিন আগেই বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করলেও এখন পর্যন্ত তার আইডি অ্যাকটিভ হয়নি। অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেও কাজ না হওয়ায় তিনি বেশ হতাশ হয়ে পড়েছেন। ঠিক এভাবেই এভাবে মেম্বারশিপের নামে শত শত গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

গ্রাহকের কাছ থেকে আইডি খোলা এবং আয়ের নানা প্রলোভন দেখিয়ে রিং আইডি এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকেই। গ্রাহকেরা কম সময়ে এবং সহজে মুনাফার আশায় এখানে বিনিয়োগ করছেন।

শুধু জবস মেম্বারশিপ দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাই নয়। বরং মেম্বারশিপ দিয়েও নানা ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে গ্রাহককে। যা ঘটছে রিং আইডির ‘ক্যাশ আউট’ নামক সিস্টেমের কারণে। নিজের জমানো টাকা অনেকেই উঠাতে পারছেন বলে বিভিন্নভাবে এজেন্টের কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।

‘কমিউনিটি জবস মেম্বারশিপ’ সিস্টেমের মাধ্যমে উক্ত অ্যাপে বিনিয়োগ করে টাকা আয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে যার দুটি প্যাকেজ অফার রয়েছে। এর একটি হলো সিলভার মেম্বারশিপ এবং গোল্ড মেম্বারশিপ। এর মাঝে সিলভার মেম্বারশিপের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রতিটি গোল্ড মেম্বারশিপের মূল্য প্রায় ২২ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ  Link Shortner এর মাধ্যমে প্রতিদিন মিনিমাম ৫ ডলার ইনকাম করুন

চলতি সময়েই কতৃপক্ষ এখানে আরও দুটি প্রবাসী প্যাকেজ যুক্ত করে। যা হলো ক্রমান্বয়ে ‘প্রবাসী গোল্ড’ এবং ‘প্রবাসী প্লাটিনাম’। এর মূল্য যথাক্রমে  ২৫ হাজার টাকা এবং৫০ হাজার টাকা।

সাধারণত অ্যাপটিতে মেম্বারশিপ পাওয়ার পর বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞাপন দেখেই গ্রাহক আয় করেন৷ এক্ষেত্রে যত গ্রাহক দেখেন তত টাকা ইনকাম হয়। তারা দাবি করে এভাবে রিং আইডি কমিউনিটি জবস মেম্বারশিপের সিলভার প্যাকেজ থেকে প্রতিদিন ২৫০ টাকা এবং প্রতি মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গোল্ড মেম্বারশিপ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। প্রবাসী গোল্ড মেম্বারশিপ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা গ্রাহককে প্রদান করার নামে ভাঁওতাবাজি করছে কোম্পানিটি। যা প্রতিমাসে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকায়।

এমন চটকদার অফার দেখে সহজেই পটে যান গ্রাহক। ফলে সেখানে বিনিয়োগ করছেন কোনোধরণের চিন্তা ছাড়াই। আশা করবো আমাদের আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়ার পরে পরবর্তীতে কোনো গ্রাহক জেনেশুনে এই ভুল পথে পা দিবে না। কেননা জেনেশুনে নিজেকে ঠকানোর মতো বড় ত্রুটি পৃথিবীতে একটিও নেই

Leave a Comment

x