খুব সহজে ব্লগিংয়ে সফল হোন| সম্পূর্ন গাইডলাইন|

Please log in or register to like posts.
পোস্ট

ব্লগিং হচ্ছে একটি স্মার্ট পেশা, আপনি এটাকে শখ এবং প্রফেশন দুইভাবেই নিতে পারবেন।

বর্তমানে ব্লগিং একটা স্মার্ট এবং মুক্ত পেশা, যা কিনা যে কেও করতে পারে। আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তবে আপনি চাইলে লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্লগিং করতে পারেন। খুব কম সংখ্যক মানুষই ব্লগিং এ সফল , এর নানা ধরনের কারণ আছে সে সকল বিষয় নিয়ে আজকে কথা বলবো। আপনি যদি সত্বিই একজন ব্লগার হতে চান তবে আপনি নির্ধাদ্বিধায় পড়ে ফেলুন আজকের এই আর্টেকেল টি।

তো ব্লগিং শুরু করার আগে আপনাকে যানতে হবে যে ব্লগিং কি এবং কিভাবে ব্লগিং থেকে অর্থউপার্জন করতে পারবেন। এবং ব্লগিং এ সফলতা খুব সহজেই কিভাবে পেতে পারেন, সে জন্য আপনার প্রয়োজন প্রচুর পরিমান ধৈর্য। আপনি যদি ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে পারেন তবে আমি বলতে পারি আপনি এই প্লাটফর্মে ১০০% সফলতা পাবেন।

কিভাবে শুরু করবেন?

ব্লগিং শুরু করার ক্ষেত্রে আপনাকে একটি প্লাটফর্ম পছন্দ করতে হবে, সেটা হতে পারে ব্লগার.কম বা ওয়ার্ডপ্রেস, এছাড়াও অনেক প্লাটফর্ম আছে তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে এই দুটি। এই দুইটা মধ্যে কোন টা কেমন বা সুবিধা অসুবিধা সেটা নিয়ে লাস্টে আলোচনা করবো।

যেহেতু আপনি একজন নতুন ব্লগার হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন সেহেতু আমি বলব আপনার জন্য বেটার হচ্ছে ব্লগার.কম। কেননা ব্লগার হচ্ছে গুগলের একটা আলাদা প্রডাক্ট বা প্লাটফর্ম। আপনি

ব্যাসিক হিসেবে এখানে ফ্রিতেই অনেক সুবিধা পেয়ে থাকবেন। যা দিয়ে মোটামুটি আপনি একজন সফল ব্লগ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তো আপনি ব্লগার.কমে ফ্রিতেই একটা ওয়েবসাইট খুলে নিন।

কিভাবে ব্লগ সাজাবেন:

যেহেতু আপনি একটি ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করে নিয়েছেন, এখন সেটাকে সাজানোর পালা। ব্লগ সাজানোর আগে অবশ্যই মোবাই ফ্রেন্ডলি ফ্রেশ একটি থীম/টেম্পলেট নির্বাচন করে ফেলুন।

আপনি ব্লগার.কমে ডিফল্ট হিসেবে অনেক ফ্রি টেম্পলেট পেয়ে যাবেন অন্যথায় গুগল সার্চ করেও থার্ট পার্টি টেম্পলেট ডাউনলোড করে নিতে পারেন। অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে যে, ফ্রি টেম্পলেটে এডসেন্স পেতে কোন সমস্যা হয় কিনা? আমি বলব না কোন রকম সমস্যা হয়না আপনি নিশ্চিন্তে ফ্রি ভার্শন ব্যবহার করতে পারেন। টেম্পলেট সেটাপ দেয়ার পর আপনি আপনার ব্লগের ক্যাটাগরি এবং পেজ ক্রিয়েট করে নিবেন এবং ভাল একটা লগো বা ব্যানার পিক বানিয়ে নিবেন।

ডোমেইন এবং হোস্টিং:

যেহেতু আপনি ব্লগার.কম এ সাইট তৈরী করেছে সেহেতু একটা ফ্রি (Blogspot.com) ডোমেইন পেয়ে গেছেন। আপনি চাইলে এটাই ব্যবহার করতে পারেন অথবা কিছু টাকা দিয়ে ভালমানের একটা ডোমেইন কিনে নিতে পারেন। সবচেয়ে ভাল হবে ভালমানের কোন ব্র‍্যান্ডিং ডোমেইন কিনে নেওয়া। যেমন (Com/Net/Xyz etc).

দ্বিতীয়ত হচ্ছে হোস্টিং, আমরা যানি যে হোস্টিং হচ্ছে ওয়েবসাইটের অফিস অর্থাৎ কন্ট্রোল প্যানেল বা স্টোরেজ। আপনি কন্ট্রোল প্যানেল ছাড়া ওয়েবসাইট কন্ট্রোল করতে বা কিচ্ছু করতে পারবেন না। তবে গুগল ব্লগার.কমের জন্য হোস্টিং একদম ফ্রিতেই আনলিমিটেড স্টোরেজ দিয়ে দিয়েছে সুতরাং ব্লগারের জন্য আপনার হোস্টিং প্রয়োজন নেই। কিন্তু অন্য প্লাটফর্মের জন্য আগে থেকে ডোমেইন কিনে নিতে হয়।

আর্টিকেল

ব্লগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্টিকেল বা কন্টেন্ট। আপনি যত সুন্দর মানসম্মত এবং প্রয়োজনীয় আর্টিকেল পাব্লিশ রাখবেন আপনার ভিজিটররা তত আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করা শুরু করবে। আপনি যদি আর্টিকেলের দিকে ফোকাস না দেন তবে আপনি কোনভাবেই সফলতার নাগাল পাবেন না।এডসেন্স পেতে হলে এবং সাইট র‍্যাংক করতে হলে আপনাকে ইউনিক আর্টিকেলের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সুতরাং ইউনিক এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখুন।

কিভাবে ভিজিটর বাড়াবেন :

ব্লগ থেকে ইনকাম করতে হলে আপনাকে ভিজিটর আনতে হবে। তার জন্য অবশ্যয় আপনাকে সময় দিতে হবে। ব্লগ SEO করতে হবে। আপ্নার ওয়েবসাইট প্রথমেই গুগল সার্চ কন্সোলে এড করে নিবেন। ভিবিন্ন গ্রুপ, পেজ এবং যে সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম আছে সেখানে শেয়ার করবেন। এই ক্ষেত্রে আপনার URL ফেসবুক থেকে ভেরিফাইড করে নিবেন অন্যথায় ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। Seo নিয়ে পরবর্তিতে বিস্তারিত লিখবো।

এড নেটওয়ার্ক

এড নেটওয়ার্ক বলতে, আপনার ব্লগ থেকে ইনকাম করার জন্য যে এডস গুলো বসাবেন এবং সেখান থেকে রেভিনিও পাবেন সেটার কথাই বলছি।

অনলাইনে জগতে অনেক কোম্পানি আচগে যাদের মাধ্যমে আপনি এড নিয়ে আপনার ব্লগে বসিয়ে ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে বেটার এবং হিউজ অর্থউপার্জন একমাত্র গুগল এডসেন্স থেকেই পাবেন। সুতরাং নিয়ম অনুযায়ী কাজ করলে আপনি খুব সহজেই এডসেন্সের সাথে কানেক্ট হতে পারবেন।

আপনি যদি উপরোক্ত সকল বিষয় খুব সুন্দরভাবে করতে পারেন তবে আশা করি আপ্নিও সফল হবেন।

ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস:

আমি প্রথমেই বলেছি যে, আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য ব্লগার.কম বেটার। ব্লগারের ইন্টারফেস খুব সুন্দর এবং খুবই সহজ।এখানে অনেক সুবিধা ফ্রিতেই পেয়ে যাবেন। যা কিনা অন্য কোথাও পাবেন না। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি বিনা কোডিংয়ে সকল কাজ করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসও আপনাকে অনেক সুবিধা দিয়ে থাকবে তবে সেটা পেইড। ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি যতগুলো টুলস ব্যবহার করবেন ম্যাক্সিমাম আপনাকে কিনে করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস শুরু করার আগে আপনাকে ডোমেইন এবং হোস্টিং সি প্যানেল কিনে নিতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস যেহেতু পেইড প্লাটফর্ম সেহেতু আপনি বাড়তি অনেক সুবিধা পেয়ে থাকবেন। ওয়ার্ডপ্রেস সাইট SEO করার জন্য বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করতে করতে পারবেন। সুতরাং আপনি প্রফেশনাল হয়ে থাকলে বা কোডিং বিষয়ে ধারনা থাকলে ওয়ার্ডপ্রেস বেছে নিতে পারেন। সবশেষে যেটা বলব সেটা হচ্ছে আপনি চাইলেই হোস্টিং কিনে ব্লগার থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে ট্রান্সফার হতে পারবেন।

আপনার সফলতার পিছনে ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেস কোন ম্যাটার না। আপনার শ্রম এবং ধৈর্যই আপনার সফলতার চাবিকাঠি।

ধন্যবাদ, ভালো থাকুন| পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন।

হ্যাপি ব্লগিং|

 

Reactions

1
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

কেউ পছন্দ করেনি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *